
প্রতিলিপিআজকে আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি আপনাদের প্রিয় লেখিকা রিমা গোস্বামী দাসের একটি ছোট্ট সাক্ষাৎকার। আশা করি আমাদের এই প্রয়াস আপনাদের ভালো লাগবে।
লেখিকার প্রোফাইল লিংক - https://bengali.pratilipi.com/user/4m108qa33i
নমস্কার আমি রিমা গোস্বামী দাস জন্মসূত্রে দুর্গাপুর নিবাসী । আমার নেশা এবং পেশা দুটোই সাহিত্যর সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত । ভালবাসি প্রকৃতির নৈসর্গের মধ্যে মাঝে মাঝে হারিয়ে যেতে । ছকে বাঁধা পড়াশোনা শেষ হয়েছে সেই এক যুগ আগে । তারপর আবার নতুন করে শুরু করেছি শুধুমাত্র লেখার অগ্রগতির জন্য ।
১) প্রতিলিপিতে কতদিন ধরে লিখছেন ও প্রতিলিপি মানে আপনার কাছে কী?
…..
প্রতিলিপি আমার কাছে সেই স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী যে আমার এতদিনের সঞ্চিত কাহিনী গুলোকে অন্য মাত্রা দিয়েছে । প্রতিলিপি আমাকে একজন লেখক হওয়ার সন্মান দিয়েছে । আমার ফোনের সবচেয়ে গুরু্বপূর্ণ এপ্লিকেশন প্রতিলিপি।
২) লেখালেখি আপনার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আপনি মূলত কী ধরনের গল্প লিখতে ভালোবাসেন?
…..
লেখা আমার কাছে একটা নিত্য দিনের অভ্যাস । আমার কাছে আমার সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা । যেখানে আমি নিজের মতো করে অবাধ বিচরন করতে পারি ।
মূলত আমি মাইথলজি নিয়ে লেখালিখি বেশি করে থাকি যার অনুপ্রেরণা আমি ছোট থেকে পেয়েছি শ্রী নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী মহাশয়ের কলম থেকে । তবে পুরান ও শাস্ত্র নিয়ে লিখলেও কোন ছকে বাঁধা পড়তে চাইনা । লেখায় বিভিন্ন ধরনের বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করি । সেটা সামাজিক , অসামাজিক , ভৌতিক বা প্রেম । কারণ লেখা হওয়া উচিত সেই খরস্রোতা নদীর মত যে আপন গতিতে চলে। এক বিষয়ে লেখা মানে গতিতে বাধা দেওয়া ।
৩) লেখার জগতে আপনার অনুপ্রেরণা কারা?
….
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মনে পড়ে যায় মেয়েবেলা , নস্টালজিক হয়ে পড়ছি । একটা ডিবেট হয়ে যেত আমার সাথে অনেকের । মানে স্বর্গীয় শ্রী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক। এছাড়াও আরো অনেকে আছেন তবে লড়াই লাগত কারণ আমি গর্বের সাথে সব সময় বলে এসেছি আর আজও বলি উনি আমার নীললোহিত । এই বাংলা সাহিত্যের আঁতুড়ঘর সেখানে আছেন শরৎচন্দ্র মহাশয় , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এছাড়াও আরও নামিদামি গুণী মনীষীরা তারা সকলেই আমার অনুপ্রেরণা।
৪) পাঠকের পছন্দ বুঝে নেওয়া নাকি নিজস্বতা - জনপ্রিয় লেখক হওয়ার জন্য কোনটি বেশি প্রয়োজনীয়?
…. প্রত্যেক লেখকের একটা নিজস্বতা থাকে বলে আমি মনে করি । নিশ্চই নিজের পছন্দ বুঝে লিখি । তবে এটাও ঠিক আমার পাঠকরাই আমার শক্তি , আমার সাহস । তাদের অনুরোধ থাকে অনেক কিছু , চেষ্টা করি যথাসাধ্য চেষ্টা করার সেই মত লেখার। জনপ্রিয় হতে গেলে দুদিক ব্যালেন্স করতেই হয় ।
৫) প্রতিলিপিতে কিভাবে নতুন লেখকদের পক্ষে লেখার মাধ্যমে উপার্জন করা সম্ভব?
… অবশ্যই সম্ভব , তবে তার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা । নিত্য দিনের অভ্যাস করতে হবে লেখাকে , কলম চলতে থাকুক নিয়মিত। নিজের ভাবনা গুলোকে নির্দ্বিধায় লিখতে হবে । প্রতিলিপি আমাকে বা আমার মত অনেক মানুষকে একজন পেশাদার লেখক হবার সন্মান দিয়েছে। দিয়েছে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ। আজ আর পরিবারের মানুষদের আফশোস নেই যে দশটা পাঁচটার চাকরিকে না করে আমি লেখক হতে চেয়েছিলাম ।
৬) লেখালেখি না করলে কোন পেশা বেছে নিতেন?
…. চাকরি করতে ইচ্ছা ছিল না কোনদিনই । লেখালিখি যদি পেশা না হতো তবে একজন শিক্ষক হয়ে থেকে যেতাম ।
৭) প্রতিদিন কতক্ষণ লেখালেখির জন্য সময় দেন?
…. কাজকর্ম , সন্তানের পড়াশোনা এসব দেখে বাকি সময়টা হয়ত বই পড়ি বা গল্প লিখি । আমার অবসর যাপন মানেই লেখালিখি ।
৮) নতুন উপন্যাস লেখার সময় আপনার গল্পের চরিত্রদের নাম কিভাবে পছন্দ করেন?
…. গল্পের প্লট অনুযায়ী নাম রাখি চরিত্রদের । যদি আধুনিক সময় তবে নাম ও আধুনিক আবার যদি পুরনো দিনের প্লট তবে তেমন নাম রাখতে হয় । এক এক সময় পাঠকদের কাছ সাহায্য নিয়ে থাকি । তারা আমাকে অনেক ভালো ভালো নাম রাখতে সাহায্য করে ।
৯) পাঠকের উদ্দেশ্যে কোনো বার্তা দিতে চান?
…. আমি লিখি আর আমার লেখাকে জীবন দেয় আপনাদের ভালোবাসা । পাঠক ছাড়া লেখক অপূর্ন । এখন তো প্রতিলিপিতে লেখার পর কমেন্টস গুলো দেখি । ওগুলো আমার কাছে মনি মানিক্য। আপনাদের কমেন্টস গুলো আমাকে লিখতে সাহায্য করে , অনুপ্রেরণা যোগায় ।
আপনারা এভাবেই আমাদের উৎসাহিত করুন ।
সাহিত্যর সঙ্গে থাকুন , সাহিত্যর সঙ্গে বাঁচুন ।