লেখক হিসেবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার মানে কিন্তু এই নয় যে আপনাকে নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হয়ে যেতে হবে। এর আসল উদ্দেশ্য হলো এমন একটা ছন্দ তৈরি করা, যা আপনার সৃজনশীলতাকে সাপোর্ট করবে, আপনার ভাবনাগুলোকে স্পষ্ট রাখবে এবং পাঠকদের মনে আপনার লেখার গতি নিয়ে একটা বিশ্বাস তৈরি করবে।
- 1
ছোট ছোট ক্লাস্টারে পর্বগুলোর প্ল্যান করুন
একবারে পুরো ধারবাহিকের প্ল্যান করার চেয়ে ছোট ছোট গ্রুপ বা ক্লাস্টারে পর্বগুলো পরিকল্পনা করা বেশি ভালো। যখন আপনি জানতে পারেন যে পরের তিন থেকে পাঁচটি পর্বে কী হতে চলেছে, তখন মনের সব কনফিউশন কেটে যায় এবং আপনি স্পষ্ট ধারণা নিয়ে লিখতে বসতে পারেন।
- 2
নিজেকে ক্লান্ত না করে উৎসাহ দেয় এমন গোল সেট করুন
এমন লক্ষ্য স্থির করুন যা আপনাকে লিখতে উৎসাহ দেবে, মানসিক চাপ বাড়াবে না। সপ্তাহে দুটি পর্ব বা দিনে মাত্র কয়েকশো শব্দ লেখার মতো সহজ টার্গেট কোনো বাড়তি প্রেশার ছাড়াই আপনার গল্পকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
- 3
আপনার লাইফস্টাইলের সাথে মেলে এমন একটি রাইটিং রিদম খুঁজে নিন
এমন লেখার সময় বা ছন্দ বেছে নিন যা আপনার রোজকার জীবনের সাথে খাপ খায়। কিছু লেখক রাতে ভালো লেখেন, কেউ আবার একদম ভোরে, কেউ বা সারাদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে লিখতে থাকেন। আপনার এই রিদম বা অভ্যাস যেন খুব স্বাভাবিক হয়, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়।
- 4
নিজের ফোকাস ধরে রাখতে সাধারণ কিছু টুল ব্যবহার করুন
লেখার সময় আপনি যাতে ফোকাসড থাকতে পারেন, তার জন্য সাধারণ কিছু ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। যেমন - ফোনের নোটস অ্যাপ, টাইমার অথবা আইডিয়া লিখে রাখার জন্য নির্দিষ্ট নোটবুক আপনার লেখাকে অনেক সহজ করে তুলতে পারে। এই ছোট ছোট সিস্টেম বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই আপনার ক্রিয়েটিভিটিকে গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
- 5
ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিলিপির ফিচারগুলোর সাহায্য নিন
ধারাবাহিকতা বা নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিলিপির ফিচারগুলো আপনাকে দারুণভাবে সাপোর্ট করতে পারে। আগে থেকে পর্ব শিডিউল করে রাখা, ড্রাফট এডিটর ব্যবহার করা এবং অটোসেভ ফিচারের ওপর ভরসা রাখা ইত্যাদি আপনাকে আপনার ব্যস্ত দিনগুলোতেও পাঠকদের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য লেখক হিসেবে তুলে ধরবে।
- 6
এমন একজন লেখক হয়ে উঠুন যাকে পাঠক চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারেন
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজেকে এমন একজন লেখক হিসেবে গড়ে তুলুন যার ওপর পাঠক নিশ্চিন্তে নির্ভর করতে পারেন। আপনার নিয়মানুবর্তিতাই পাঠকের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করে। এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নেয় আনুগত্য। পাঠকদের এই ভালোবাসাই দীর্ঘমেয়াদে আপনার অগ্রগতি এবং উপার্জনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
- 7
নিয়মানুবর্ততার সাথে কল্পনার সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখুন
নিজের শৃঙ্খলার সাথে কল্পনার একটা ব্যালেন্স তৈরি করুন। নিজের লেখার গতির প্রতি সৎ থাকুন, তবে প্রয়োজনে নিজেকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি দিন। একজন সুসংগঠিত লেখক মানেই যে তাকে নিখুঁত হতে হবে, এমন নয়। এখন ভালো লেখক নিজের লেখার প্রক্রিয়ার প্রতি যত্নশীল থাকেন।
Happy writing!
— Team Pratilipi
