♦ আমার পরিচয় ♦
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
(ধরণঃ আত্মকাহিনি)
একজন ordinary মানুষ,
যার জীবনের গল্প—extraordinary।
আমার গল্পের শুরু
জীবনের গল্প সবার আলাদা—
কারওটা সুখে ভরা, কারওটা সংগ্রামে।
আমার গল্প হয়তো তোমাদের চোখে সাধারণ,
কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য বেদনা, লড়াই আর এক টুকরো আশার আলো।
আমি প্রতিদিন লড়ি—
শুধু পরিবারের জন্য,
শুধু আমার দুই মেয়ের হাসির জন্য।
হয়তো আগামীকাল নেই,
তবু আজও বেঁচে আছি ভালোবাসার টানে।
আমার শিকড়
আমার জন্ম ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীতে,
কিন্তু বড় হওয়া ঢাকার শাহজাহানপুরে।
সেই ছোট গলিতে দৌড়ানো ছেলেটা কোনোদিন ভাবেনি—
একদিন জীবন তাকে এমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে।
২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর—
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, আমার বাবা,
চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।
সেই শূন্যতা আজও বুকের ভেতর পুড়ে।
আমার পৃথিবী—আমার পরিবার
স্ত্রী—আমার নীরব যোদ্ধা,
দুই কন্যা—আমার চোখের আলো।
বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে,
ওদের হাসিই আমার প্রতিদিন বাঁচার কারণ।
তবু মনে ভয় কাজ করে—
যদি আমি হঠাৎ থেমে যাই, ওদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
শিক্ষা ও পথচলা
পড়াশোনা ছিল আমার স্বপ্নপূরণের একমাত্র পথ।
১৯৮৯ – মতিঝিল মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি
১৯৯১ – সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি
১৯৯৪ – জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে অনার্স (সারা দেশে ২৩তম স্থান)
১৯৯৫ – একই বিষয়ে এমএসসি
২০০০ – নট্রামস থেকে কম্পিউটার বিষয়ে হায়ার ডিপ্লোমা
কর্মজীবন ও সাফল্য
১৯৯৯ সালে একটি ব্যাংকে সহকারী অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু।
পরবর্তী সময়ে তিনটি ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করে ২০১৩ সালে পৌঁছাই এফএভিপি পদে।
২০১৩ থেকে ২০১৯—
একটি পাঁচতারকা হোটেলে প্রধান হিসাব কর্মকর্তা,
এরপর একটি গ্রুপ অব কোম্পানিতে সিএফও (Chief Financial Officer) হিসেবে দায়িত্ব পালন।
দেশ–বিদেশে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সাফল্য—সবই ছিল জীবনের অংশ।
মনে হয়েছিল—সব ঠিকঠাক চলছে।
কিন্তু তখনই নেমে এলো জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়।
অসুস্থতার কালো অধ্যায়
২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি: প্রথম হার্ট অ্যাটাক। লাইফ সাপোর্ট, বিদেশে রিং বসানো, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা।
২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর: দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক। ওপেন হার্ট সার্জারি, দুটি বাইপাস।
২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর: তৃতীয় হার্ট অ্যাটাক। হার্টের ৬০% সেল নষ্ট, পাম্পিং ৩৫-৪০% এ নেমে আসে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি: সিএজি রিপোর্টে দেখা যায় ৯৫% ব্লক।
ডাক্তারদের একটাই উত্তর—“আর কোনো চিকিৎসা সম্ভব নয়।”(𝐍𝐨 𝐅𝐮𝐫𝐭𝐡𝐞𝐫 𝐓𝐫𝐞𝐚𝐭𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐏𝐨𝐬𝐬𝐢𝐛𝐥𝐞)
এখন জীবন চলে ওষুধ, ইনজেকশন, সিসিইউ ও আইসিইউর উপর নির্ভর করে।
চিকিৎসার খরচ এত বেশি যে, একা বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আজকের আমি
আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।
চিকিৎসা, সংসার, ভয়—সব এক কাঁধে।
জানি, সময় আমার পক্ষে নেই,
তবু থামিনি—
কারণ আমার মেয়েদের হাসিই আমার জীবনের শক্তি।
শেষ কিছু কথা
আমি করুণা চাই না।
চাই না কেউ আমার জন্য কাঁদুক।
শুধু চাই, আমার গল্পটা যেন মনে করিয়ে দেয়—
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও ভালোবাসা, দায়িত্ব আর বিশ্বাসই মানুষকে টিকিয়ে রাখে।
যদি এই গল্পে তোমরা কিছু অনুভব করো,
তাহলে একবার শেয়ার করো।
হয়তো তোমার শেয়ারটাই
হবে আমার টিকে থাকার আরেকটি কারণ।
#আমারপরিচয় #জীবনেরগল্প #সংগ্রামেরগল্প #হার্টপেশেন্ট #পরিবারআমারভরসা #মেয়েরাজীবন
#জীবনেরলড়াই #ভালোবাসায়টিকেথাকা #MyIdentity #LifeStory #StruggleOfLife #HeartPatient #FamilyIsStrength #DaughtersAreLife #StoryOfSurvival #ReasonToLive #StayStrong #Bangladesh